৩ লক্ষ‌ স্টুডেন্টের কমিউনিটি ‘কালচারাল ক্লাসিসিস্ট’ ফাউন্ডারের কণ্ঠে কখনো‌ হারতে না শেখার স্বর

2700

 নিজের সম্পর্কে যখন আমাকে বলতে বলা হলো,সবার প্রথমে মাথায় আসে,”আরেহ আমার গল্প শোনার দিন ও চলে আসলো!”। আমি নিজেও যে খুব একটা গল্প পড়তাম এমনও না। কিন্তু আমার জীবনে বড় করে বলতে পারব – জীবন প্রতিযোগীতায় আমি কখনো হারিনি। সাময়িক যত ব্যর্থতা ছিল সব গুলো নতুন করে জিততে শিখিয়েছে,নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তবে এই ‘আমি’ হওয়ার গল্পটার পিছনে আছে অনেক মানুষ, আছে আরো ছোট গল্প। আমার বাবা – মা দু-জনই চাকরিজীবী। এজন্য আমার ছোটবেলাটা নিজের মতোই কাটে,নিজের মতো বেড়ে ওঠে। এই স্বাধীনভাবে চলার ভালো খারাপ দুই দিকই উপলব্ধি করি। ছোট থেকে জিজ্ঞাসু স্বভাবের আমি সব কিছুই প্রশ্নের দোরগোড়ায় দাড়া করাতাম। পৃথিবীর সব বিষয়কে একবার করে হলেও জানার কৌতুহল ছোট বেলা থেকে।

আমি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। তবে এখানে সবচেয়ে বড় একটা একটা অর্জন ছিল আইডিয়ালের ২০ বছরের গর্ব সাইন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হওয়া যা আমার জীবনের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। শিখতে এবং শেখাতে যে ভালো লাগা সেটাও অনুভব করা হয় ইস্টার্কেই(ISTARC)।



২০০ জুনিয়রকে অনলাইনে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখাতে ভালোই লাগে,এটাই বোধহয় সার্থকতা। করোনা প্রকপে হঠাৎ কোয়ারেন্টানে বাসার মধ্যে যখন নিজেকে বন্দী আবিষ্কার করি, আমার মতো কারোর পক্ষে এভাবে সময় কাটানো কল্পনাতীত। কারচারাল সাইট নিয়ে কিছু করা যায় কিনা এই চিন্তা তখনই। বিজ্ঞান ক্লাবের পাশাপাশি আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক পর্যায় নিয়ে তখনই নেমে পড়া। চিন্তা করতে করতে বানিয়ে ফেললাম কালচারাল ক্লাসিসিস্ট গ্রুপ। একপা দুপা করে আজ সেখানে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করে যাচ্ছে। অবাক করা বিষয় না? সাড়ে তিন লাখ প্রতিভাকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা? জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোধহয় এটাই । আমাদের আরও একটি পার্ট হলো আলাদা সক্রিয় টিম বা ক্যাসেল যেখানে ১০০/১৫০ এর মতো অর্গানাইজর, এনালিস্ট এবং রয়েছে কোর্ডিনেটর।

যারা মিলে মিশে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের এই কালচারাল ক্লাসিসিস্ট পরিবার এ। তাদের সাথে কাটানো সময়গুলোর জন্যই হয়তো আমার কোয়ারেন্টাইন এতো সুন্দর। কোর্ডিনেটর দের যুক্ত করে তাদের লিডারশিপ বাড়ানোর কাজটি আমাদের এই প্ল্যাটফর্ম সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি আইডিয়ালের সাইন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণেই অনলাইনে আমার জুনিয়রদেরকে ভলেন্টিয়ার এর জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার সাথে সারা দেশের লাখো শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক অনলাইন লাইভ সেশন করছি যেটায় তারা উপকৃত হচ্ছে। এইতো জীবন,এইতো সফলতা।দেশের বাইরে ৩০ এর বেশি দেশে কাজ চলছে কালচারাল ক্লাসিসিস্ট থেকে, দেশ বরেণ্যদের একই পেজের মধ্যে এনে তাদের থেকে শিক্ষা নেয়া চলছে ISTARC(Ideal Science & Technology Aiming Research Council) থেকে।আমার ব্যক্তিগত সফলতার চেয়ে এগুলোকেই এগিয়ে রাখব সবসময়। আজ বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ কালচারাল প্লাটফর্ম কালচারাল ক্লাসিসিস্ট, আমি চাই কালচারাল ক্লাসিসিস্ট কে বাংলাদেশের বাইরে আরও ছড়িয়ে দিতে ৷

এবং আমার কালচারাল প্লাটফর্ম ও আমার সায়েন্স ক্লাবের মাধ্যমে লিডারশিপ কোয়ালিটি গুলো যেন মানুষ চর্চা করতে পারে সেই সুযোগ করে দেওয়া এবং তারা যেন আউটসোর্সিং করতে পারে সেই ব্যবস্থাও করে দেওয়া- হয়তো খুব শীঘ্রই হবে। এসবের পাশাপাশি সেবামূলক কাজেও পিছিয়ে নেই কালচারাল ক্লাসিসিস্ট। প্রতিমাসে অসহায়দের খাদ্য বিতরণসহ আরো কর্মসূচী নেয়া হয়ে থাকে। এইযে এতো এতো সাফল্য,এর পেছনে প্রতিবন্ধকতার গল্পটা আরো লম্বা,আছে পরিবার ও বাকিদের অনুপ্রেরণা। কোন একদিন সেটা নিয়ে হয়তো লেখা হবে। কিন্তু একটা প্রতিজ্ঞাই সব কিছুর ঊর্ধ্বে তুলে রাখব – “কখনো হারতে না শেখা”