লকডাউনে দিশেহারা মংলার নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ

89

রাজন সরদার,

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে রেকর্ড শনাক্ত হয়েছে। তবে মৃত্যু কমেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫৩ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ২৬৬ জনে। আর দেশের ইতিহাসে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জনে।

করোনাভাইরাস নিয়ে রোববার (৪ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এমন অবস্থায় সরকার ১ সপ্তাহের জন্য দেশ ব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে সারা দেশে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে, এতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে মংলার নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ, এ যেন মরার উপর খারার ঘা, নিম্নআয়ের এই মানুষগুলোর ধারণা করোনায় যদি নাও মরি ইনকাম না থাকলে ভাতের অভাবে হয়তো আমরা মরে যাব, মংলা পৌর শহরের ইজিবাইক চালক আলামিন জানান গতবার করোনার কারণে লকডাউনে চাকরি হারিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি চলে আসি ধার দেনা করে সমিতি থেকে লোন নিয়ে এই গাড়িটা কিনেছি বর্তমানে এর উপরেই আমার সংসার চলে যদি আবারো লকডাউন শুরু হয় তাহলে মা স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আমার হয়ত না খেয়ে মরতে হবে, তার উপর আবার প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয় কি যে করবো মাথায় কিছু ধরছেনা সামনে রোজার মাস, রোজার বাজার করতে হবে মা রোজা থাকে আমার স্ত্রী ও রোজা থাকে এখন আল্লাই আমাদের একমাত্র ভরসা।

স্বপন নামের চায়ের দোকানদার জানান লকডাউন আসলেই তো সবার আগে চায়ের দোকান বন্ধ করে দেয় আমার এই দোকানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো ইনকাম হয় আর এই ইনকামের উপর দিয়েই দুই ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে আমার জীবন চলা যদি দোকান বন্ধ হয়ে যায় তাহলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে যাবে। বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন লকডাউনের কথা শোনার পর থেকেই রাতে ঘুমাতে পারি না সামনে রোজার মাস খুব টেনশন হচ্ছে গত লকডাউনে অনেক লস হয়েছে সেই লস পুষিয়ে নিতে ধার দেণা করেছি এবং কি ঋণ নিয়েছি রোজার মাসে ভালো ব্যবসা হবে সেই আশাতে বুক বেঁধে আছি যদি আবারো লকডাউন শুরু হয় মরা ছাড়া আর কোন উপায় হবে না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মোটরসাইকেল ড্রাইভার বলেন আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতাম গত লকডাউনে আমি চাকরি হারিয়ে মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছিলাম পরে বাড়িতে এসে সমিতি থেকে লোন করে এই মোটরসাইকেলটি কিনি এবং বর্তমানে এই মোটরসাইকেল দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করি যদি লকডাউন শুরু হয় তাহলে আমি বড় বিপদে পড়ে যাব, কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইবো মান-সম্মানের কারণে তাও পারবোনা তাছাড়া আমার মা খুব অসুস্থ প্রতিদিনই আমাকে ১৫০ টাকার ঔষধ কিনতে হয়, কি যে করবো মাথায় কিছু কাজ করছে না।

নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ (বেলাল) ছদ্মনাম জানান কোন চাকরি না থাকাতে কোচিং সেন্টারের ব্যবসা করছি, এগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কি করে যে ভাত খাব এই চিন্তাই করছি কারন আমরা কারো কাছে হাত পেতে সাহায্য নিতে পারব না আর কেউ আমাদেরকে সাহায্য দিতে আসে না,

ঘরে বসে ধুকে ধুকে না খেয়ে মরা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় হবে না, তাই সরকারের উচিত করোনার সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি লকডাউন শীতিল করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার মনিটরিং করা যাতে সামনে রোজার মাসে মানুষ ডাল-ভাত খেয়ে হলেও বেঁচে থাকতে পারে।