বাংলাদেশে বিড়াল – কুকুরের বাণিজ্যিক খামার করতে চান সুমাইয়া মুনা

372

 

তানজিন রাব্বি,

বিশেষ প্রতিনিধি: নিউজ অব ঢাকা,

ব্যবসায়ী বাবার মেয়ে হওয়ার‌ বদৌলতে পৈতৃকনিবাস গোমতীপাড়ের কুমিল্লা ছেড়ে মুনার জন্ম হয় সুদূর প্রবাসে, কুয়েত। শৈশব, ছেলেবেলা কাটে কুয়েতে। দেশের বাইরে সংস্কৃতির সাথে প্রথম পরিচয় বলেই কিনা মুনার চলাফেরা – আচরণ ছিল একটু ভিন্নরকম।

আমাদের দেশের শিশুরা যে বয়সে মাঠে দৌড়ে বেড়ায়, বাড়ির উঠোন দাপিয়ে বেড়ায়, তখন সে খেলা করতো নিরাপত্তা রক্ষার্থে পোষা কুকুরের সাথে। সাধারণত বাংলার ছোট মেয়ে শিশুরা যখন হাড়ি-পাতিল, পুতুল নিয়ে খেলা করতে বেশি আগ্রহী থাকে, ব্যতিক্রমী মুনা তখন তার একাকীত্ব কাটাতো বোবা প্রাণীদের সাথে। হঠাৎ করেই বয়স বাড়ার সাথে, স্কুলে যাবার বয়স হয়ে গেলে স্বপরিবারে দেশে চলে আসে ভর্তি হয়ে যায় বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেইসাথে দূরে চলে যায় বোবা প্রাণী দের কাছ থেকে, ব্যস্ত হয়ে পড়েন গদবাধা শিক্ষাব্যবস্থায়। তবে তার মায়াবী মন থেকে আদর আদায় করতে রাস্তার কুকুর বিড়ালদের তেমন কিছুই করতে হতো না। রাস্তায় কুকুর বিড়াল দেখলে‌ অনায়াসেই সে কোলে তুলে নিতো, পরম স্নেহে মায়ের মমতায় আদর করত । অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার অবস্থায় প্রথমবারের মতো একটি বিড়ালছানাকে বাসায় নিয়ে যায় সে, আদর আর ভালোবাসায় লালন করতে থাকে অপার ভালোবাসা আর স্নেহে। কিন্তু বিড়াল লালন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান না থাকায় ঘটে বিপত্তি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রথম যখন আমি বিড়াল পালা শুরু করি তখন আমি কিছুই জানতাম না যে কিভাবে বিড়াল সামলাতে হয় বা বিড়াল পালতে হয়। শুধু জানতাম যে ওকে আমার কাছে রাখবো । কিন্তু রাস্তা থেকে তুলে আনা একটা বিড়ালছানা আমার বাসার পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছিল না, দেখা যাচ্ছিল যে ও যেখানে সেখানে মলত্যাগ করে রেখেছে বা লাফালাফি করে বাসার জিনিসপত্র ভেঙ্গে রেখেছে। এরকম এক বিরূপ পরিস্থিতিতে পরে ছোট্ট ও বিড়াল ছানা কে পরিচিত একজন বিয়ার পালকের কাছে দিয়ে আসতে বাধ্য হতে হয় আমাকে।’ তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মুনা ইন্টারনেট – ইউটিউব দেখে, বিভিন্ন সংগঠনের সাহায্যে, পশু চিকিৎসকদের সহায়তায় বিড়াল পালার কৌশল সম্পূর্ণভাবে রপ্ত করে সে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়েছেন জেদী, বাড়িয়েছেন পশুজ্ঞান, আয়ত্ত করেছেন কুকুর বিড়াল পালার সকল কৌশল। পরিণত মুনা উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে পালা শুরু করে দুটো বিড়ালছানা এবং সফলভাবে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বিড়াল পালতে থাকেন এবং বিড়ালের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে বিড়ালের সংখ্যার সাথে পারিপার্শ্বিক সমস্যা ও বাড়তে থাকে। প্রথমত আশেপাশের সবাই বিড়াল থেকে নানারকম রোগ-জীবাণু ছড়ানোর শঙ্কা করতে থাকে। সাথে যুক্ত হয় একটু আড়চোখে দেখা। আবার বিড়ালগুলো প্রচুর প্রভুভুক্ত হওয়ায় সব সময় মুনার সাথেই থাকতে চায়। যার ফলে তার কলেজ করা, কোচিং করা কিংবা কোন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা কষ্টকর হয়ে উঠে। তবে এ সকল সমস্যাকে তোয়াক্কা না করে মুনা বলেন, ” আমি ওদের অনেক ভালোবাসি। ওদের জন্য আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না, কারণ আমি বিড়াল পালন সম্পর্কে অনেক স্টাডি করেছি। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর বিড়াল থেকে কোন রোগ জীবাণু তেমন ছড়ায় না তেমনি ওদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুললে ওরা ঘর ও নোংরা করে না আবার জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর ও করে না। ঘরের বিড়ালের ঠিকমতো যত্ন নিলে ভ্যাকসিনের ও প্রয়োজন পড়ে‌ না।” বর্তমানে তার বন্ধু-বান্ধবসহ বিড়ালপ্রেমীদের বিড়ালছানা উপহার দিয়ে থাকেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি News of Dhaka কে জানান যে তিনি‌ বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে বিড়াল – কুকুরের খামার তৈরি করতে চান।