করোনায় ‌নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তদের জন্য কাজ করছে মানবিক সংগঠন : “আলোড়নের মিষ্টি হাসি” “আলোড়নের মিষ্টি হাসি”

306

এটি শুধুমাত্র একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানই নয় বরং কিছু মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর সামান্য প্রচেষ্টা। পরিচালনা দায়িত্ব ‌পালন করছে তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তারা । দেশ উন্নয়নের কাজ যতটা না সরকারের, নাগরিক হিসেবে তার কিছুটা দায়িত্ব জনগণেরও রয়েছে। আর সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে সাহায্য করার প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা শুরু। করোনা মহামারী যখন শুরু হয়, আশেপাশের মধ্যবিত্তদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর নিম্নবিত্তদের অবস্থা আরো শোচনীয়। চারপাশের অনেক বন্ধু -বান্ধুবি কে দেখেছেন বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত হতে।

কেউ অনলাইনে ব্যবসা করছে, তো কেউ আবার বিভিন্ন অরগানাইজেশানের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু ‌তার মাথায় তখন একটা চিন্তা আসলো যেহেতু স্কুল -কলেজ বন্ধ, পড়ালেখার চাপ কম‌।‌ এবং তারা বাকি ৫টা মানুষের থেকে তুলনামূলকভাবে ভালো জীবনযাপন করছি। সেক্ষেত্রে তারা ভাবে কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা এনজিও এর মত অরগানাইজেশন প্রতিষ্ঠা করার কথা। ব্যক্তিগতভাবে এধরণের কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ ও ভালো লাগা ছিল‌ অনেক আগে থেকেই ‌।

তাই একাই যতটুকু পারতেন সাহায্য করতেন। কিন্তু সংবদ্ধ হয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আগে কখনো ছিলনা। এরপর পরিবারের সদস্যদেরকে বিষয়টি জানানোর পর তারা তা্য চিন্তা-ভাবনা শুনে খুশি হল এবং এধরনের ভালো কাজের জন্য তাকে উৎসাহ দিল। তারপর সে তার কয়েকজন বন্ধুর সাথে আইডিয়াটা শেয়ার করল। তারাও যথেষ্ট উৎসাহ দিল এবং এই কাজে তারা অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী হল। এক বন্ধু বলল,”আরে দোস্ত! ডোনেশন ইনশা’আল্লাহ ভালোই উঠবে, তুই অরগানাইজেশন খুল আগে। পরে যা হবে দেখা যাবে, আল্লাহ ভরসা।” যেই ভাবনা সেই কাজ। নতুন ভোরের সূর্য দেখে, নতুন আশার আলো নিয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১লা ফেব্রুয়ারী সবাই মিলে “আলোড়নের মিষ্টি হাসি”

নন প্রফিট অরগানাইজেশনটি চালু করে দেন। তাদের প্রথম প্রজেক্ট “ক্ষুধা” ঢাকার এক বস্তিকে কেন্দ্র করে কাজ শুরু করছ। পবিত্র রমজান মাসে ছন্নছাড়া অসহায় কিছু মানুষ ও পথশিশুদের সাহায্য করার জন্য এই প্রজেক্টে তাদের কাজ করা। আলোড়ন পরিবারের সদস্যরা টাকা জমা করে এই কাজের জন্য। আশেপাশের কিছু মানুষও আমাদের এই উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়েছিল এবং তারাও কিছু ডোনেট করেছিল। এভাবেই অসহায় মানুষদের জন্য ইফতারের আয়োজন করে তারা ।

হয়ত কয়েকশো মানুষকে খাওয়াতে পারেনি কিন্তু এই মহামারি পরিস্থিতিতে একজন মানুষকে সাহায্য করতে পারাটাও অনেক। তারা চেয়েছিল এর মাধ্যমে যেন সমাজের অন্য ৫/৬জন মানুষও যেন অসহায়দের সাহায্য করার উৎসাহ পায়। তাদের সাথে কাজ করার জন্য বিভিন্ন জেলার মানুষও অনেক আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই তো যাদের ঢাকার প্রজেক্ট “ক্ষুধা” এর মতো করে ঝিনাইদহে এরকম একটি প্রজেক্ট এ কাজ করে।আলোড়নের সাথে ঝিনাইদহ এর সোলজারস যারা যুক্ত আছে, তারাও অসহায়দের জন্য একটি ইফতারের আয়োজন করে এবং তারাও একটা দিন এই মানুষগুলোর সাথে ইফতারি করে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নেয়।

এসকল কাজের মধ্যে অসহায় মানুষের মুখের হাসিটাই ছিল আলোড়ন এর বড় প্রাপ্তি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তাদের কর্মীদের অনেক ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হয়েছে করণ কিছু গরীব লোকের উগ্র আচরণে ভলেন্টিয়ারদের অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল। তবুও তারা নিজেদের সামলে ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সুন্দরভাবে সবকিছু পরিচালনা করেছিল। অসহায় মানুষদের জন্য তারা যে কাজ করেছিল, এতে তারা ভীষণ খুশি হয়েছিল এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল। কর্মপ্রেরণার সংজ্ঞাই হচ্ছে কাজের জন্য গভীর আগ্রহের সৃষ্টি। আর এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেক আলোড়ন সদস্যদের মধ্যেই ছিল গভীর আগ্রহ।

ফলে নানাবিধ বাধাকে মানিয়ে আজ আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অল্প কিছু সংখ্যক মানুষকে নিয়ে তাদের এই পথযাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তাদের পেজ এ লাইক ১৩৮৭ টি। আমাদের মোট ইসি মেম্বার ১৬ জন। কাজের সুবিধার জন্য জেনারেল মেম্বাররা আমাদেরকে সাহায্য করে, যাদেরকে‌ তারা সোলজারস( Soldiers) বলে থাকেন । আলোড়নের সাথে যারা যুক্ত হতে চায় তারা Soldiers হিসেবে তাদের সাথে যুক্ত হতে পারবেন, একটি রেজিষ্ট্রেশন ফ্রম ফিলাপ করে। আলোড়ন নিয়ে স্বপ্ন হলো যেখানেই অসহায় মানুষ সেখানেই যেন তারা সাহায্যের হাত বাড়াতে পারি। আমরা আশা করি ইনশা’আল্লাহ আমাদের এই আলোড়ন পরিবার আরো বড় হবে। আমাদের প্রজেক্টগুলো আমরা আরো বিভিন্ন জায়গায় বাস্তবায়ন করতে পারব। আর এই পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগিয়ে চলছে আগামীর পথে।